মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৫

বোয়ালমারীতে আগুনে পুড়ে শত বছরের বৃদ্ধার মুত্যু



বোয়ালমারী  প্রতিনিধি ঃ উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের গুনবহা গ্রামের আতিয়ার মোল্লা ও আবু শামের বাড়িতে সোমবার (১২.১০.১৫) সন্ধ্যা সাতটায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় দশ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে গেছে নগদ ৫০ হাজার টাকা। এ সময় আগুনে দগ্ধ হয়ে আতিয়ার মোল্লার শাশুড়ি মাজু বেগম (১০৬) মারা গেছে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রন করে। ফায়ার সার্ভিস সুত্র জানায় বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়। দুটি টিনের ঘর, পাট, স্বর্ণালংকার, মুল্যবান আসবাবপত্র এবং নগদ টাকা পুড়ে যায়।

বোয়ালমারীতে ট্রাক চাপায় স্কুল শিক্ষক আহত প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ




বোয়ালমারী  প্রতিনিধি ঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর শহরের হক মার্কেটের সামনে গত মঙ্গলবার (১৩.১০.১৫) নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক গৌতম কুমার সাহা (৩৭) ট্রাক চাপায় গুরুতর আহত হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ট্রাক (যশোর-ট ১১-২৮০৩) ও ট্রাকের  চালক মিনারুলকে (৩০) আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আহত গৌতমকে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে তার ডান পা কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও চালকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা  বোয়ালমারী কামারগ্রাম সড়ক অবরোধ করে। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আমিনুল হক বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

বোয়ালমারীতে কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার



বোয়ালমারী প্রতিনিধি ঃ গত মঙ্গলবার (১৩.১০.১৫) উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চতর গ্রামের পাশের কুমার নদ থেকে কলেজ ছাত্র আমির খানের (২৩) লাশ থেকে উদ্ধার করেছে জয়নগর ফাঁড়ির পুলিশ। সে চতর গ্রামের আজিজার রহমানের একমাত্র ছেলে এবং মধুখালী আব্দুর রহমান টেকনিক্যাল কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় কে বা কারা আমিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সে বাড়ি না ফেরায় রাতভর তাকে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে আমিরের চাচাত ভাই রোকন কুমার নদে তাকে মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখে সবাইকে খবর দেয়। খবর পেয়ে জয়নগর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আবুল কালাম আজাদ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বোয়ালমারীতে আন্তজার্তিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন



বোয়ালমারী প্রতিনিধি ঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা পরিষদের আয়োজনে গত মঙ্গলবার (১৩.১০.১৫) আন্তজার্তিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষ্যে র‌্যালি আলোচনা সভা চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও মু. খায়রুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এমএম মোশাররফ হোসেন।

ছিদ্দীক সভাপতি- সিরাজ সম্পাদক, বোয়ালমারী বি এন পি'র সম্মেলন সম্প~ন্ন©




‪‎বোয়ালমারী উপজেলা বি এন পির দ্বি-বার্ষীক সম্মেলন আজ ১৩ অক্টোবর শান্তি পূর্ণ ভাবে সম্প~ন্ন© হয়েছে। সম্মেলন শেষে কাউন্সিলর দের ভোটে সভাপতি পদে আলহাজ ছিদ্দীকুর রহমান,সাধারন সম্পাদক পদে এডঃ সিরাজুল ইসলাম পূনঃনির্বাচিত হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নতুন মূখ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন মজিবুর রহমান বাবু। সভাপতি পদে ছিদ্দীকুর রহমান-৩৪ ভোট,প্রতিদন্দ্বী খঃরফিকুল ইসলাম কামাল-২১ ভোট, সাধারন সম্পাদক পদে সিরাজুল ইসলাম-৩৬ ভোট,প্রতিদন্দ্বী মোজাফফর হোসেন চুন্নু-১৯ ভোট, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মজিবর রহমান বাবু-৩৩ ভোট,প্রতিদন্দ্বী ডাবলু ১৯ কামাল - ভোট প্রাপ্ত হন বলে জানা গেছে|

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৫

সালথায় জবেদ-রুকু হত্যার আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে



বিপ্লব কুমার দাস(শাওন)ঃ- ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের জবেদ শেখ ও রুকু শেখ হত্যা মামলার বেশীর ভাগ আসামীরাই রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে মামলার বাদীকে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে প্রাননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মামলার আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া দুটি পরিবারের স্বজনদের হুমকি-ধামকি দেবার পাশাপাশি গ্রাম ছাড়া করার কথাও বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ দিকে, সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জবেদ আলী শেখ ও রুকু শেখের পরিবার দুটি তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হবার পথে। বর্তমানে দুটি পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। একদিকে হত্যাকারীদের নানা হুমকি-ধামকিতে নিরাপত্তাহীণতায় ভোগা এবং অন্যদিকে সংসার চালানো নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দুটি পরিবারের স্বজনদের। ৭ সন্তান নিয়ে একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়েছে জবেদ শেখ ও রুকু শেখের স্ত্রী’রা। আত্বীয়-স্বজনদের কাছ থেকে চেয়ে চিন্তে কোন রকমে চলছে তাদের সংসার। খেয়ে না খেয়ে মানবেতরভাবে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। জবেদ শেখ ও রুকু শেখের স্ত্রী-সন্তানেরা এমন নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার দাবীর পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার দাবী করেছেন প্রশাসনের কাছে। নির্মম-নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতার দাবীতে স্থানীয়রা সোচ্চার হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।
সরেজমিন ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বাউসখালী গ্রামের আবেদ শেখ, জবেদ শেখ গংদের সাথে একই গ্রামের আতিয়ার ফকিরগংদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে মাঝে মধ্যেই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ৫ মার্চ সকালে জবেদ আলী শেখ বাউসখালী বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে আতিয়ার ফকির, বাচ্চু ফকির, জামাল শেখের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। তারা জবেদ আলীকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে আহত করে। জবেদ আলীর চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে রুকু শেক, ওহাব শেখ আইয়ুব, স্রাটসহ কয়েকজন তাদের উপরও হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে মারাত্বক ভাবে আহত হয় ঠেকাতে আসা লোকজন। সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্বক ভাবে আহতদের পাশ্ববর্তী মুকসেদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে মারা যায় জবেদ আলী শেখ। মারাত্বক আহত রুকু শেখকে মুকসেদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেদিনই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় রুকু শেখ।
দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় আদালতে মামলা হয়। জবেদ আলী শেখ হত্যা মামলায় তার ভাই আবেদ শেখ বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের নামে একটি মামলা করে। মামলার আসামীরা হলেন- মোঃ আতিয়ার ফকির, মোঃ জামাল শেখ, বাচ্চু ফকির, মোঃ চাঁন মিয়া, মোঃ তারা মিয়া, রাজিব শেখ, মোঃ সজীব শেখ, মোঃ জলিল শেখ, খলিল শেখ, নাজমুল শেখ, মোঃ ইমামুল শেখ, টুকু শেখ, জুয়েল ফকির, মোঃ হারুন খা, মোঃ বিপুল ফকির, শফিকুর রহমান মিলন, শাহজাহান মোল্যা ওরফে শাহান। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেছেন, দুটি হত্যা মামলার বেশীর ভাগ আসামীরাই বর্তমানে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা স্থানীয় ভাবে বেশ ক্ষমতাশালী। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা। আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের ধরতে পুলিশের অনিহা রয়েছে। নিহত জবেদ আলী শেখের ভাই আবেদ আলী শেখ অভিযোগ করে বলেন, আমার সামনেই সন্ত্রাসীরা আমার আপন ভাই জবেদ আলী ও চাচাতো ভাই রুকু শেখকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে। পরে তারা দুজনেই মারা যায়। আমাকেসহ আরো কয়েকজনকেও তারা কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। ভাগ্য ভালা থাকায় এবং স্থানীয় বেশকিছু লোক ঘটনাস্থলে চলে আসায় আমরা প্রানে বেঁচে যাই।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, আসামীরা দিনের বেলা প্রকাশ্যে দুজনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করেও এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। আমি মামলার বাদী হওয়ায় আমাকেও যে কোন সময় হত্যা করা হতে পারে। একাধিকবার আমাকে হত্যা করতে হুমকি দেয়া হয়েছে। মামলা তুলে না নিলে আমাকে করুন পরিনতি ভোগ করতে হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। মামলা না তুললে আমাদের গ্রাম থেকেও উচ্ছেদ করা হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি আমার দু ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই। বর্তমানে আমার পরিবারসহ আমার চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের লোকজন চরম আতংকিত অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছি। একেকটি দিন যাচ্ছে আর মনে হচ্ছে আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার পাবোনা।
জবেদ শেখের স্ত্রী হাসিনা বেগম জানান, তার স্বামীর আয় দিয়েই সংসার চলতো তাদের। স্বামীকে হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সংসার চালাতে গিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হচ্ছে। চারটি মেয়ে নিয়ে তিনি এখন মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছেন। তাছাড়া অব্যাহত হুমকির কারনে তিনি চার মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
নিহত রুকু শেখের স্ত্রী ফেরদৌসি আক্তার প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রকাশ্যে যারা আমার স্বামীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করলো, আমার তিন সন্তানকে যারা এতিম করলো তাদের বিচার কি কোনদিন হবেনা? যারা হত্যার সাথে জড়িত তারাই এখন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। নানাভাবে হুমকি দেয়। আমাদের গ্রাম ছাড়া করার কথা বলে, এদেশে কি আইন নেই। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই আমি।
ফেরদৌসি আক্তার বলেন, ছোট তিনটি ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। স্বামীর আয় দিয়েই চলতো গোটা পরিবার। স্বামী না থাকায় পুরো পরিবারটি এখন পথে বসার জোগার হয়েছে।নিহত জবেদ শেখের মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বাবারে আমার অনেক বয়স হইছে, আমি অহনো বাইচ্চা আছি। কিন্তু আমার পোলাডারে হেরা মাইরা হালাইলো। অহন আমাগো মাইরা হালানের কথা কয়। আমার পোলারে যারা মারছে, তাগো বিচার চাই আমি। আমি আমার পোলার খুনিগো ফাঁসি দেইখ্যা মরবার চাই’।
বাউসখালী বাজারের থাকা বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সাথে হত্যাকান্ডের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তারা প্রথমে কেউই কথা বলতে চাননি। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাদের চোখে মুখে অজানা আতংকের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠে। নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দু একজনকে রাজী করানো গেলেও তারা বলেছেন, প্রভাবশালী একটি পরিবারের লোক এ হত্যাকান্ডের মামলার আসামী হওয়ায় এ নিয়ে কথা বলে তাদের শক্রু হতে চাইনা। তবে তারা একবাক্যেই বলেছেন, এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার চান তারা। বাজার থেকে কিছুটা দুরে ইশারায় সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে যান জনৈক ব্যক্তি।
তিনি নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ বাজারে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে আসামী পক্ষেরও দু’একজন রয়েছে। যার কারনে তাদের উপস্থিতিতে কেউ হত্যাকান্ডের বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাননি। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখানে কোন সাংবাদিক আসতে সাহস পায়নি। প্রভাবশালী মহলটির ছত্রছায়ায় বেশকিছু ব্যক্তি পালাক্রমে বাজারে পাহাড়া দেয়। মূলত তাদের ভয়েই কেউ উচ্যবাচ্য করতে সাহস পায়না।

চাকুরী জাতীয় করনের দাবীতে আলফাডাঙ্গায় কমিউনিটি ক্লিনিকের মানববন্ধন




আলফাডাঙ্গা(ফরিদপুর) ঃ স্বাস্থ্য বিভাগের কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে ট্রাস্ট আইনের ২২ এর “খ” ধারা বাতিল করে উক্ত পদের চাকুরী জাতীয় করনের দাবীতে গত সোমবার ১২ অক্টোবর আলফাডাঙ্গা উপজেলা সি এইচ সি পি’র উদ্যেগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্া্ররে সামনে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন উপজেলার ১৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সি.এইচ.সি.পি সানজিদা খান, ফরিদা খানম, কল্যানী রানী সেন, মল্লিকা দাস, রহিমা বেগম, মানব কুমার বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ বাগচী, মিলন শেখ, জালাল উদ্দিন, আমেনা বেগম, বিপুল প্রমূখ।

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৫

বোয়ালমারীতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত



বোয়ালমারী প্রতিনিধি ঃ ‘কন্যা শিশুর নিরাপদ পরিবেশ সমৃদ্ধ করবে আগামীর বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে রোববার (১১.১০.১৫) উপজেলা পরিষদ ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালন উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউএনও মু. খায়রুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এমএম মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মৃধা মিলন, সহকারী কমিশনার ভূমি শরিফুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইলা রানী কুন্ডু, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন প্রমুখ।

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৫

আলফাডাঙ্গায় বিএনপি’র ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন, গুরু শীর্ষের লড়াই

সংবাদদাতা, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) ঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র সম্মলেনকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা হয়ে উঠছে নেতার্কমীরা। কমিটি গঠনকে সামনে রেখে নেতার্কমীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক তোড়জোড়। কমিটিতে পদ পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে লবিং চালাচ্ছেন ও উপজেলার ছয় ইউনিয়নের কর্মীদের খোজ খবর  নিচ্ছেন।

 জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সম্মেলনে সম্ভব্য প্রার্থী হলেন, বর্তমান উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মিয়া মো. আকরামুজ্জামান (সভাপতি প্রার্থী), সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি, বর্তমান উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বার বার কারা বরণকারী নির্যাতিত নেতা মো. নূর জামাল খসরু (সভাপতি প্রার্থী), নব্বই সালের এরশাদ বিরোধী সৈরশাসক আন্দলনকারী উপজেলা সম্বন্বয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক, সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, সেচ্ছাসেবক ও কৃষক দলের সভাপতি, বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত উপজেলা বিএনপির সাবেক  সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান আলফাডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আঃ মান্নান মিয়া আব্বাস (সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী), বর্তমান আলফাডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি উপজেলা বিএনপির অন্যতম উপদেষ্টা আঃ ছালাম শেখ (সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী), বর্তমান উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম(সাংগঠনিক প্রার্থী) । সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।


বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৫

যুদ্ধাপরাধী সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ





আলফাডাঙ্গা(ফরিদপুর)ঃ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী(সাকা) ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল আমীর আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এর মৃত্যুদন্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার আয়োজনে গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যলায় সামনে উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা ও সুধী জন সমাবেশে উপস্থিত হয়। পরে উপজেলা চত্তর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে সদর বাজার চৌরাস্তায় শেষ করে। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সিদ্দিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার জালাল উদ্দিন,আবু বকর সিদ্দিক,অলিয়ার রহমান,মো. সিদ্দিক মোল্যা প্রমূখ।

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫

আলফাডাঙ্গায় নারীর অধিকার বাস্তবায়ন ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কর্মশালা

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম নাঈমঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পল্লি উন্নয়ন একতা সংস্থার আয়োজনে আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ কামারগ্রাম মিলনায়তনে  গত ৭ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টায় বন ও পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার বৈষম্য, নারীর অধিকার বাস্তবায়ন ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ শীর্ষক একদিনের কর্মশালা আনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায়  অংশগ্রহণ করেন উক্ত কলেজের প্রভাষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও  ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে বিস্তারিত আলোচনা করেন পল্লি উন্নয়ন একতা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. হাসমত আলী কাজল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম, আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকেন্দার আলম, উক্ত কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম লিটন,  উপজেলা আ’লীগ নেতা আলাউদ্দিন, গোপালপুর ইউনিয়ন ওলামালীগের সভাপতি মো. আলী মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এস এম রাজিউর রহমান (রাজিব), মো. হাসেম মোল্যা, সাংবাদিক মো. আবুল বাশার ও মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম প্রমূখ।

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৫

বিলুপ্তির পথে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী অনেক খেলা এখন বিলুপ্তির পথে। কাবাডি, গাদি, বৌচি,ডাংগুলি, লাঠি খেলা সহ হাজারো রকমের খেলা যা একদিন গ্রামবাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে অক্সিজেন যোগাত তা এখন হারিয়ে গেছে। আধুনিক ক্রীড়ার কাছে এরা অপাংক্তেয় হয়ে পড়েছে। তাই ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলির কদরও কমে গেছে। এখন আর কোন উৎসবে মাইক বাজিয়ে প্রচার করা হয়না ভাইসব আগামীকাল স্থানীয় স্কুল মাঠে বিরাট এক হা ডু ডু খেলার আয়োজন করা হয়েছে। খেলায় অংশ গ্রহণকারী দুটি দূর্ধষ দল উত্তরপাড়া বনাম দক্ষিন পাড়া। বিজয়ীদেরকে দেড়মণ ওজনের এক পেল্লাই খাসি পুরস্কার দেওয়া হবে। সে সব খেলার স্থলে এখন সেখানে পশ্চিমাদের খেলাগুলির মাতুব্বরি চোখ ঝলসে যাচ্ছে। এসব খেলাধুলার নামে পেশি শক্তির প্রদর্শনী চলছে। আমাদের আগামী প্রজন্ম একধরননের হিংসার যোগান পাচ্ছেন এসব খেলা থেকে। আবার চোখ ধাঁধাঁনো ক্রীড়ানৌপূন্যের চেয়ে অর্থ আয়ের টনিক হিসাবে কাজ করছে এসব খেলাধুলা । নির্লোভ আনন্দের ধারা এখন সব খেলা থেকে উধাও। আর একারণে নির্মল আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ক্রীড়ামোদী মানুষেরা।ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দিয়ে এলাকাবাসীর গর্ব ছিল।

কিন্তু দুঃখের বিষয় এবারেও সেই নির্মল আনন্দ থেকে এলাকাবাসীকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

কেন হয়েছে সরেজমিনে সেটাই আমাদের পাঠকদের জানাচ্ছেন ফরিদপুর থেকে বিপ্লব কুমার দাস (শাওন)--ফরিদপুরের ভাঙ্গা কুমার নদে ৩শ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ সত্যিই আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে।

ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ এবছরও হলোনা। তবে ২সপ্তাহ আগে থেকেই নদের দুপাড়ে মেলা বসেছে। বাইচ হবেনা জেনে মেলায় আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছেন। তিনশ বছরের ঐতিহ্য মোতাবেক গত ১৮ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পুজা উপলক্ষ্যে দক্ষিণ বঙ্গের ৩শ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ভাঙ্গা কুমার নদে ঐতিহ্যগত ভাবেই আয়োজন করা হয়। তবে এবারে ষাড়ে ষাড়ে লড়াইয়ের কারণে তার আয়োজন হয়ে যায় বলে জানা গেছে। বর্তমান এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ও সাবেক এমপি আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থকদের মধ্যে বাইচের কর্তৃত্ব নিয়ে এই দ্বন্দের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

আর একারণকে সামনে রেখে সাম্ভব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এবছর বাইচ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুখে করুপ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নাম না প্রকাশের শর্তে আয়োজকদের একজন জানালেন কি ভাবে হবে এক বনে তো আর দুইবাঘ বাস করতে পারেনা। আর করলেও তাদের হুংকারে অনান্য প্রাণীর জীবন সংশয় হতে পারে। তাই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কতৃপক্ষ ভাবছেন, যেহেতু মাথাব্যথা- সেহেতু মাথাটাই কেটে ফেলা যাক।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি জানালেন, শুনেছি বহু বছরের পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতি বছরই এখানে হয়ে আসছে। কিন্তু এবছর সময় স্বল্পতার কারণে তার আয়োজন করা যায়নি।
বাইচ বন্ধ সর্ম্পকে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল ইসলাম জানান, দুই গ্রুপের সমন্বয় হীনতার করানে এবছর নৌকা বাইচ হলোনা, এটা স্পষ্ট।

অন্যদিকে ভাঙ্গা উপজেলার পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি সাবেক কমিশনার জগদীষ চন্দ্র মালো জানান, অনেক আগে থেকে দেখে আসছি উপজেলা প্রশাসন অথবা ভাঙ্গা বাজার বনিক সমিতি, নৌকা বাইচ কমিটি দায়িত্ব নিয়ে বাইচটি আয়োজন করে থাকে। এবারেও বাইচটি হবে এমন প্রত্যাশা নিয়ে আমরা তাকিয়ে ছিলাম।

তার অভিযোগ,উপজেলা চেয়ারম্যান অনেক পরে মিটিং আহ্বান করে মূলত বাইচটি যাতে না হয় সেদিকটাই নিশ্চিত করেছেন। এত স্বল্প সময়ের কারণে কেউই দায়িত্ব নিতে চাননি। তবে এমন হবে আগে থেকে জানানো হলে বা জানা গেলে, সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে বাইচের আয়োজন করত।

তিনি আরো বলেন, গত বছর নৌকা বাইচের দিন জামাতের আমির নিজামির যুদ্ধাপরাধীরর বিচারের রায় হওয়ায় ১৪৪ ধারা জারীর কারনে বাইচটি হতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, আমার বয়স ৬৫ বছর আমার বাবা এবং দাদার আমলের আগে থেকে ৩/৪শ বছর যাবৎ বাইচ হয়ে আসছে।

 দু বছর যাবৎ বাইচ না হওয়ায় এলাকাবাসী প্রচ-ভাবে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।


নামেই শুধু স্টেডিয়াম

বিপ্লব কুমার দাস (শাওন)ঃ ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় নামমাত্র একটি স্টেডিয়াম রয়েছে। স্টেডিয়ামের যে অবকাঠামো থাকার কথা তার কোনটিই এখানে নেই। ছোট্র একটি মাঠ থাকলেও সেটি খেলাধুলার করারও অনুপযোগী। দু’দিকে সীমানা প্রাচীর থাকলে বাকি দু’দিকে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। স্টেডিয়ামটিতে বসার কোন গ্যালারী নেই। দিনের বেশীর ভাগ সময় এবং সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসাবে ব্যবহƒত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলার কারনে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে ব্যবস্থা নেবার কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। ফলে এলাকার বেশ কয়েকজন উদ্যোগী ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, এরশাদের আমলে উপজেলা গঠিত হলে সদরপুর বাজারের কাছে ৫০ শতাংশ জমি রাখা হয স্টেডিয়ামটির নামে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামের মাঠটির বেশীর ভাগ দখলে রেখে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। তাছাড়া সপ্তাহের বাজার বসতো এখানে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করা হতো এ মাঠে। স্টেডিয়ামটির বড় একটি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল মাইক্রো ও ভ্যান স্ট্যান্ড। দিনের পর দিন বেশীর ভাগ জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় মাঠটি রক্ষার জন্য কয়েকজন ক্রিড়ামোদী ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। তারা বিভিন্ন সময় মাঠটি দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহন করেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের অসহযোগীতার কারনে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। গত বছর দুয়েক আগে মাঠটি রক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে মাঠের দু পাশে সীমানা প্রাচীর করে দেয়া হয়।

কিন্তু অপর দুপাশে ফাঁকা থাকায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বেশকিছু অংশ জায়গা এখনও দখল করে রেখেছে। এ মাঠে কোন খেলাধূলা না হওয়ায় এককথায় মাঠটি অকেজো অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি নামে স্টেডিয়াম হলেও আসলে এটিকে খেলার মাঠ বলাই ভালো। স্টেডিয়াম করতে হলে অনেক বড় জায়গার দরকার হয়। কিন্তু এখানে খেলার মতো কোন জায়গা নেই। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি খেলার মতো জায়গা নেই এখানে। এ মাঠে শুধুমাত্র কাবাডি কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলা হতে পারে। তাছাড়া খেলা দেখার জন্য বসার কোন ব্যবস্থা নেই। মাঠটির তিন পাশে সরকারী রাস্তা থাকায় কালভদ্রে কোন খেলা হলে সেখানে দাঁড়িয়েই খেলা দেখতে হয়।
স্টেডিয়ামটির চারপাশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিদিনই পসড়া সাজিয়ে বসেন। তাছাড়া স্টেডিয়ামটির প্রধান ফটকের সামনে রিকশা-ভ্যান রাখা হয়। স্টেডিয়ামটির বেদখলকৃত জায়গা উদ্ধার করে এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং ছোট আকারে গ্যালারী তৈরী করার দাবী সদরপুরবাসীর।

গ্রাম ডাঃ মোঃ নওয়াব আলী এর দুই কবিতা

‘নৌকা বাইচ’

বিশ্বকর্মা পূজা যখন হয় বিশ্বজুরে,
নৌকা বাইচের কথা তখন সবার মণে পড়ে।
আমাদের নৌকা বাইচ হয় ভাঙ্গায় কুমার গাঙে,
কী মনোহর মেলা বসে ভাঙ্গায় নানান রঙে-ঢঙে।
কুমার গাঙের কিনার ঘেষে বসে ভাঙ্গার হাট,
বিশ্বকর্মা পূজা এলে মিলে বাইচের মেলা বিরাট।
মাটির তৈরি যত হাড়ি-পাতিল,
কাঠের ফার্নিচার আর শোলার গাঙচিল।
মাটির তৈরি গরু,ঘোড়া,মহিষ, বাঁশি পুতুল,
আরো থাকে শিশুদের অতিপ্রিয় কাগজের ফুল।
চারিদিকে বাজে ঢোল তাক ঢুমা ঢুম-ঢুম,
মেলায় আসলে মণে পড়ে যায় কেনাকাটার ধুম।
জিলাপি,রসগোল্লা চমচম,দানাদার-
সেরা মিষ্টি ল্যাঞ্চা - দানাদার।।  

‘বাবাকে  হারাই’ 

মৃত্যু শয্যায় শুয়ে বাবায়
ভাবছেন আগুপিছু,
লাভ কি হলো আসা -যাওয়ায়
জীবনটাই মিছু ।

বাবা আমায় বললেন ডেকে
“শুনো নওয়াব মিয়া,
আমি যাচ্ছি জগৎ থেকে
চির বিদায় নিয়া ”।

আমি বলি একি কথা!
মনে লাগে ভয় ,
বুকে জাগে দারুন ব্যথা
না জানি কি হয়।

হঠাৎ করে চক্ষু তার
বন্ধ হয়ে যায়,
পলকেতে হয় ভবপার
মরি হায়রে হায়।

এমন ভাবে বলে -কয়ে
বিদায় নিবেন বাবা
আমি বড় সন্তান হয়ে
পারিনি তা ভাবা ।

সত্যি, বাবা গেলেন চলে
আর না এলেন ফিরে ,
পাব কি তারে জলে স্থলে
দেশ-বিদেশে ঘুরে।

বিপ্লব কুমার দাস (শাওন) এর কবিতা “ কুরবানি”

কুরবানিটা করতে হবে যতো লাগুক টাকা,
মানুষ তাকে বাহ বাহ দিবে ঈমানটা তার ফাকা।
   
পশু জবাই নয়তো এটা অশুভকে কুরবান,
সত্য পথে চলতে হবে দিতে হবে জবান।

রক্ত-মাংস নেন না খোদা দেখেন অন্তর-বিশ্বাস,
এ কথাটা মনে রেখ থাকতে দেহে-প্রশ্বাস। 

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৫

বোয়ালমারীতে সুশীল সমাজের সাথে ইউএনওর মতবিনিময়


বোয়ালমারী প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সদ্য যোগ দেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. খায়রুজ্জামান গত ৫ অক্টোবর সোমবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। উপজেল পরিষদ হলরুমে ইউএনও মু.খায়রুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এমএম মোশাররফ হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মৃধা মিলন, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তি গাজী সামচুজ্জামান খোকন, ব্যবসায়ী শ্যামল সাহা ও সাংবাদিক মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী।

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৫

আলফাডাঙ্গায় সন্ত্রাসীদের হামলায় যুবক আহত

সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত মো. সোহেল মিয়া
স্টাফ রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় য় উপজেলাধীন বাকাইল গ্রামের মো. দরবেশ মিয়ার পুত্র মো. সোহেল মিয়া সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সোহেল রাত ৮ টায় আলফাডাঙ্গা বাজার হতে বাকাইল গ্রামে নিজ বাড়ি যাওয়ার পথে  উপজেলাধীন শ্রীরামপুর গ্রামের জনৈক মতি মিয়ার বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছামাত্র পূর্ব শত্রুতা ও বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা রামদা, ছেনদা, লোহার রড, বাশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সোহেল মিয়াকে রক্তাত্ব অবস্থায় উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে সোহেল হাসপাতালের বেডে শুয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমি আলফাডাঙ্গা বাজার হতে নিজ বাড়ি যাওয়ার পথে শ্রীরামপুর মতি মিয়ার বাড়ির সামনে পৌছামাত্র সন্ত্রাসী ইমরান তালুকদার, এনামুল তালুকদার, মুন্না সহ অজ্ঞতনামা আরো ৩/৪ জন রামদা, ছেনদা, লোহার রড, বাশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী ভাবে আমাকে মারপিট শুরুতর আহত করে। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় বলে তুই এ ব্যাপারে মুখ খুললে তোকে পরে খুন করে ফেলবো। এ বিষয়ে সোহেল বাদী হয়ে শ্রীরামপুর গ্রামের মো. বাগাইনে তালুকদারের পুত্র ইমরান তালুকদার, জঙ্গু তালুকদারের পুত্র এনামুল তালুকদার, বাকাইল গ্রামের শহিদুল ইসলামের পুত্র মুন্না সহ অজ্ঞতনামা আরো ৩/৪ এর বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং-১০তাং-৩০/

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন

মোঃ আঃ রউফ তালুকদার, যুগ্ন-আহবায়ক হেমায়েত এম আরিফ  এবং মোঃ আলমগীর কবির
স্টাফি রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব ভবনে বৃহস্পতিবার সন্ধায় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোরাদ হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে  ক্লাবের ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করা হয়েছে। পরে ক্লাবের উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি এবং উপজেলা আ.লীগের সভাপতি এসএম আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ আঃ রউফ তালুকদার, যুগ্ন-আহবায়ক হেমায়েত এম আরিফ  এবং মোঃ আলমগীর কবির। উল্লেখ্য, এ কমিটি আগামী ৩মাসের মধ্যে একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্লাবের (সাবেক) সাঃ সম্পাদক প্রবীর কুমার বিশ্বাস। এ সময় প্রেসক্লাবের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

পাটখাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে আগে কৃষককে বাঁচাতে হবে - হারুন অর রশিদ


বিপ্লব কুমার দাস(শাওন)ঃ বর্তমানে পাটের বাজারের যে অবস্থা তাতে করে সরকার দ্রুত নানামুখী পদক্ষেপ না নিলে এ খাতকে টিকিয়ে রাখা মুসকিল হবে।

পাটখাতকে রক্ষা করতে হলে প্রথমেই কৃষককে বাঁচাতে হবে। যাদের ঘামে এবং শ্রমে পাট উৎপাদন হচ্ছে সেই কৃষকই এখন পাট চাষ করতে গিয়ে মরতে বসেছে। গ্রামে গঞ্জে এখন বলতে শোনা যায়- সোনালী আঁশ পাট এখন কৃষকের গলার ফাঁস। আমরা কৃষকদের এমন দুন্দশার কথা আর শুনতে চাইনা। পাট নিয়ে কোন রাজনীতিও আমরা দেখতে চাইনা।

সরকার, পাট ব্যবসায়ী এবং পাট চাষীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই ‘সোনালী আঁশ পাট’ ফিরে পাক তার পুরনো গৌরব। এজন্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ খাতের পুরনো ইমেজ ফিরিয়ে আনতে। বর্তমান সরকার কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই নিয়েছে যা প্রসংসার দাবিদার। এ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পাটখাতকে লাভজনক অবস্থায় নেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তবে পাট শিল্পকে রক্ষা করতে হলে সূদুর প্রসারী পদক্ষেপ নিয়ে সরকারকে আগাতে হবে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী ও পাট চাষী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ হারুন অর রশিদ একান্ত এ সাক্ষাতকারে পাটের নানাদিক নিয়ে কথা বলেছেন। বর্তমানে সারাদেশে পাটের দাম নিম্মমুখী হচ্ছে বলে তিনি জানান।

হারুন অর রশিদ বলেন, একজন কৃষক যে অর্থ এবং শ্রম ব্যয় করে পাট উৎপাদন করছে সেই পাট বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা তো দুরে থাক লোকসানের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছে। ফলে এতদাঞ্চলের কৃষকেরা পাট আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। দিনে দিনে পাটের আবাদ আশংকাজনক হারে কমে যাচ্ছে পাটের রাজধানী হিসাবে খ্যাত ফরিদপুর জেলায়। কৃষকদের পাট আবাদে উৎসাহী করতে তিনি কিছু পদক্ষেপ নেবার কথা বলেন। পাট আবাদে কৃষককে সুদমুক্ত ঋন দিতে হবে। উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করতে হবে। সময় মতো সার, ডিজেল দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারী এবং বেসরকারী ব্যাংক গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সময়মতো বীজ, সার না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কৃষকেরা পাট আবাদ করতে পারেন না। প্রয়োজনে সরকারের তরফ থেকে ন্যায্যমূল্যে বীজ ও সার দিতে হবে পাট আবাদকারী কৃষকদের। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে যারা কৃষি কর্মকর্তা আছে তাদের কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। কৃষকদের পাট আবাদে নতুন নতুন জাত সর্ম্পকে পরামর্শ ও বুদ্ধি দিতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের নজরদারী বাড়াতে হবে এবং পাট চাষীদের সাথে সুসর্ম্পক রাখতে হবে। তাছাড়া পাট আবাদকারী কৃষকদের মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে।হারুন অর রশিদ বলেন, বর্তমানে বাজারে উন্নতমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৪শ টাকায়। এ টাকায় পাট বিক্রি করে কৃষকদের পুঁজিই উঠছেনা। মন প্রতি কমপক্ষে ২৫শ টাকা দিলে কৃষকেরা বাঁচতে পারবে। বাজারে এখন যা দাম রয়েছে তা কৃষকদের জন্য কোন অবস্থাতেই তা সঠিক নয়। বর্তমানে বাজারে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে- তাতে আগামী দিনে পাট আবাদ আশংকাজনক হারে কমবে।
তিনি বলেন- অনেক কৃষকই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, লাভ না হলে প্রতি বছর কেন তারা পাট আবাদ করবেন।পাটখাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আগে কৃষককে বাঁচাতে হবে বলে মনে করেন হারুন অর রশিদ।
সরকার যদি ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনতো তাহলে কৃষক হয়তো কিছুটা দাম পেতো।
কিন্তু সরকার কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনছেনা। আর কৃষকও সরকারের কাছে পাট বিক্রি করছেনা। তিনি বলেন, ফরিদপুরে সরকারী যে কয়টি পাটক্রয় কেন্দ্র রয়েছে সেখানে কৃষকেরা পাট বিক্রি করতে অনিহা দেখায়।

কেননা, সরকার নগদ টাকায় পাট কিনছেনা। অনেক সময় নগদ টাকায় পাট কিনলেও সেটি সময়মতো না কিনে দেরীতে কিনছে। ফলে সরকার যে দাম নির্ধারন করছে তা বাজার মূল্যের চেয়ে কম। ফলে সরকারী গুদাম গুলো এখনও ফাঁকাই রয়ে গেছে।

অন্যদিকে বিগত দিনে যেসব কৃষক বাকিতে সরকারী ক্রয় কেন্দ্র গুলোতে পাট বিক্রি করেছে সেই টাকাও তারা সময়মতো পাচ্ছেনা। যার কারনে কৃষকদের লোকসান হলেও নগদ টাকায় তারা ফড়িয়া কিংবা ব্যবসায়ীদের কাছে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। বৃহত্তর ফরিদপুর জেলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পাট চাষীরা সরকারের কাছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। প্রতি বছরই এ দেনা বাড়ছে। কিছু ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী এখনো সরকারী গুদাম গুলোতে বাকিতে পাট বিক্রি করায় অল্প কিছু পাট গুদাম গুলোতে দেখা যাচ্ছে। ফরিদপুর জেলায় সরকারী ক্রয়কেন্দ্র গুলোতে পাট কেনার যে টার্গেট বেঁধে দেয়া হয়েছিল তার ২০ কিনতে পারেনি। তিনি মনে করেন, সরকারের কাছে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যে পাওনা রয়েছে তা দ্রুত পরিশোধ করলে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারী ক্রয়কেন্দ্র গুলোতে পাট বিক্রি করবে। পাট মৌসুমের শুরুতে সরকারী ক্রয়কেন্দ্র গুলোতে পাট কেনার জন্য টাকা না দেয়ায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন এর কর্মকর্তাদের উদাসিনতার জন্য পাটখাতে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। পাট ক্রয়ের জন্য যে নীতিমালা রয়েছে তা মানা হচ্ছেনা বলে হারুন অর রশিদ মনে করেন।

তিনি বলেন, গত বছর পাটের যে দর নির্ধারন করে দেয়া হয়েছিল তা এখনো বলবৎ রয়েছে। কিন্তু বাজারে পাটের দাম বাড়ছে এবং অনেক সময় কমছে এগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে না। ফলে পাটকল গুলো সঠিক দামে পাট কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন ও পাট মন্ত্রনালয় যৌথ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পাটের বাজার পর্যবেক্ষন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, জেলা পর্যায়ে বিজেএমসি’র যে কেন্দ্র গুলো রয়েছে সেখানে একজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। যাতে করে তিনি সার্বক্ষনিক ভাবে বাজার মনিটরিং করতে পারে।

পাটখাতকে লাভজনক স্থানে নিতে হলে অবশ্যই সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পাটের উৎপাদিত বিভিন্ন পন্যের বাজার সৃষ্টি করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে পাটের সামগ্রী বিক্রির জন্য ঋন দিতে হবে। যারা পাট দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদন করবে তাদের সহায়তা দিতে হবে। এজন্য পাট মন্ত্রনালয়কে নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে।
হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের পাট নিয়ে ভারত সহ বিভিন্ন দেশ নানা পণ্য তৈরী করছে। আর সে পণ্য আমরা কিনছি অধিক দামে। অনেক সময় আমাদের পাট ভারতে পাচার হয়ে যায়। এজন্য পাচার বন্ধে সরকারের নজরদারী বাড়াতে হবে।ফরিদপুর জেলার পাট বিশ্ব বিখ্যাত। এ জেলায় অন্যান্য ফসলের আবাদ বাড়ছে। অথচ বিরাট একটি সম্ভবনাময় খাত ‘পাট’কে অবহেলায় রাখা হচ্ছে।

তিনি সরকারের কাছে প্রস্তাব রেখে বলেন, পাটের রাজধানী খ্যাত ফরিদপুর জেলাকে নিয়ে একটি স্পেশাল প্রোগ্রাম হাতে নেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ফরিদপুরের বিশাল একটি এলাকা নিয়ে ‘পাটজোন’ গড়ে তোলা যায়। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এ জোনে কৃষকেরা অগ্রাধিকার ভিক্তিতে পাট আবাদ করবে। সরকার তাদের সকল সুবিধা দেবে। এ জোন থেকে উৎপাদিত পাট কৃষকেরা নগদ মূল্যে সরকারী ক্রয় কেন্দ্র গুলোতে বিক্রি করবে। যদি এমনটি করা যায় তাহলে- পাট আবাদে এতদাঞ্চলের কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী ও পাট চাষী এসোসিয়েশন থেকে পাটখাতকে এগিয়ে নিতে কি কি উদ্যোগ এবং পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক বলেন, পাট ব্যবসায়ী ও পাট চাষীদের স্বার্থে আমাদের সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় পাটের ন্যার্যমূল্য দিতে সরকারকে চাপ দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহী করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। আমাদের সংগঠনটি বিভিন্ন সময় পাট মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে চাষী ও ব্যবসায়ীদের নানা দাবী পূরন করতে পেরেছি। সরকারের কাছে পাট ব্যবসায়ী ও কৃষকদের যে পাওনা রয়েছে তা পরিশোধ করতে আমাদের সংগঠনটি বড় একটি ভুমিকা রাখছে।
হারুন অর রশিদ মনে করেন বর্তমানে পাট মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে যে প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন তিনি একজন চৌকষ ব্যক্তি। ইতোমধ্যেই পাটখাতকে এগিয়ে নিতে এবং এ খাতের দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধে তিনি বেশ কঠোর ভুমিকা নিয়েছেন।
তার আশা সরকারের তরফ থেকে আরো কিছু সময়োপযুগী পদক্ষেপ নিলে পাটখাত তার হারানো গৌরব আবারো ফিরে পাবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীপ্রতি ২০০ টাকা ফি সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস!



২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার। ঘড়ির কাঁটা সকাল সোয়া ৯টার ঘরে। ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি বিভাগের ডক্টরস ডিউটি রুম। একের পর এক রোগী দেখছেন ডিউটি চিকিৎসক ডা. দারবারাজ। তবে শুধু রোগীই দেখছেন না, বিনিময়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ফি নিচ্ছিলেন তিনি। প্রথম ১৩ মিনিটে জন রোগী দেখে ৬০০ টাকা নেন ডা. দারবারাজ। দারবারাজের এমন প্রাইভেট প্র্যাকটিস বসে বসে দেখছিলেন আরেক চিকিৎসক ডা. জয়ন্ত সাহা। এক রোগীর কাছে টাকা ভাংতি না থাকায় ডা. জয়ন্ত খুচরা টাকা দিয়ে সহযোগিতাও করেন। এই চিকিৎসক এক রোগীর স্বজনকে বলছিলেন, ‘টাকা দিয়ে দেখালে বসেন। না হলে পরে আইসেন!’ সরকারি হাসপাতালে এমন চিত্রের দালিলিক প্রমাণ রাখতে বুক ব্যথার কথা বলে এই প্রতিবেদক নিজেও ২০০ টাকা দিয়ে ওই চিকিৎসককে দেখান।
নিজের এক বছর বয়সী শিশুসন্তানকে দারবারাজের কাছে ২০০ টাকা ভিজিট দিয়ে দেখিয়েছেন হালিমা খাতুন। সরকারি হাসপাতালে কেন টাকা দিয়ে দেখাবেন জানতে চাইলে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, কী আর করব! টাকা ছাড়া তো দেখবে না। তাই বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে দেখালাম। আমাদের মতো গরিব মানুষের কাছে ২০০ টাকা অনেক বেশি। তারপরও সন্তানের কথা চিন্তা করেই দেখিয়েছি।
আরেক ভুক্তভোগী কবির হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে যদি টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাতে হয় তাহলে যাব কোথায়? বিষয়টি দেখার কেউ নেই।
সরকারি হাসপাতালে বসে রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন কীভাবেÑ জানতে চাইলে ডা. দারবারাজ আমাদের সময়কে বলেন, অসম্ভব। আমি সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি হাসপাতালে বসে রোগীদের কাছ থেকে কেন টাকা নেব? অভিযোগ অস্বীকার করার পর এই প্রতিবেদক নিজেই টাকা দিয়ে তাকে দেখিয়েছেন জানালে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এখানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী তাদের স্বজনদের অভিযোগ, এই হাসপাতালে অনেক সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এটাকে অন্যান্য মফস্বলের সরকারি হাসপাতালের মতো স্বাভাবিক চিত্র হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত তারা। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে বসে টাকার বিনিময়ে সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাইয়ূম তালুকদার আমাদের সময়কে বলেন, হাসপাতালে বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই। ডা. দারবারাজ ডা. জয়ন্ত সাহা দুজনই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। ঈদের সময় চিকিৎসক সংকটের কারণে অতিথি চিকিৎসক হিসেবে তারা এসেছিলেন। কিন্তু তারা তো কাজ করতে পারেন না। বিষয়ে আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব। তবে এই হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক এমন কাজ করেন না বলে দাবি করেন তিনি।
নয়ন শিকদার নামে এক রোগীর স্বজন জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের আউটডোরে যান তিনি। তিনি গাইনি বিষয়ের চিকিৎসক দেখাতে চাইলেও টিকিট কাউন্টার থেকে তাকে পাঠানো হয় চোখের চিকিৎসকের কাছে। পরে স্ত্রীর চিকিৎসা না করিয়েই ফিরে আসেন বলে জানান তিনি



- See more at: http://www.dainikamadershomoy.com/2015/10/03/50909.php

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০১৫

ফরিদপুরে জাল টাকা ও ইয়াবাসহ ৫ জন আটক


বিপ্লব কুমার দাস(শাওন):-ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ভীমপুর হতে ৯শ ৩৫ পিস ইয়াবাসহ রুহুল মুন্সী নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার গভীর রাতে উপজেলার নওপাড়া-ভীমপুর আন্ত:সড়কের বাবুলের বাড়ির সামনে থেকে রুহুলের গতিবিধি সন্দেহ হলে পুলিশ তার দেহ তল্লাসী করে। এসময় তার কোমরে পলিথিন দিয়ে পেচানো অবস্থ্ায় ৯শ ৩৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে মধুখালী থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে মধুখালী থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।
এদিকে, বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি গ্রামে ফরিদপুর র‌্যাব-৮ এর একটি দল বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৯ হাজার টাকার ২ শত ৯টি এক হাজার টাকার জাল নোট ও ৩শ ৬ পিস ইয়াবাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হল গোহাইলবাড়ি গ্রামের দিপক কুন্ডু, রুবেল শেখ, মো নাজির শেখ ও মাধবপুর গ্রামের মো আকরাম।
র‌্যাবের ডিএডি মো রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিপক কুন্ডুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘরে থাকা জাল টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার করে এবং তাদের হাতে নাতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ডিএডি রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় ৪জনকে আসামী করে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছেন।

সদরপুরে ইলিশ মাছ ধরার জাল জব্দ


বিপ্লব কুমার দাস(শাওন):-
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদীতে বুধবার রাতে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে ইলিশ মাছ ধরার জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। ইলিশ মাছ ধরার দায়ে অভিযুক্ত জেলে রব বেপারী, হিরু ফকির, ও মালেক ফকির নামে ৩ জেলেকে মৎস্য সংরক্ষণ ২০০৫ ধারায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ইলিশের প্রজনণ বৃদ্দির জন্য গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ মাছ ধরা, ক্রয় বিক্রয় ও বহন নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
আদেশ অমান্য করে জেলেদের ইলিশ শিকারের সংবাদ পেয়ে সদরপুর এসিল্যান্ড মো সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদীর বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানকালে দেড় হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য কর্মকর্তা সজীব সাহা, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এইচ এম জাকির হোসেন, সহকারি মস্য কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান প্রমুখ। জব্দকৃত মাছগুলো স্থানীয় মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৫

লম্পট আইযুব এর কান্ড ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা খেয়ে অবশেষে বিয়ে

স্টাফ রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার ব্যবসায়ী মোল্লা ষ্টোর এর মালিক লম্পট আইযুব মোল্লা নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাতের আধারে অপত্তিকর অবস্থার জনতার হাতে ধরে খেয়ে অবশেষে বিয়ে করেছে। 

জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার রাত ১০ টায় আলফাডাঙ্গা সদর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন মোল্লা ষ্টোর এর মালিক আইযুব মোল্লা নিজের দোকানের ভিতরে অপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে ধরা খায়। পরে জনতা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ আইয়ুবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সত্যতা পায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গন্যর্মান্য ব্যক্তি থানা থেকে ছাড়িয়ে এনে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিলা (২২) এর সঙ্গে ঔ রাতে বিয়ে করিয়ে দেয়। আইযুব সাংবাদিকদের জানান, নিলা আমার পূর্বের বিবাহীত স্ত্রী। ঘটনার দিন রাতে সে আমার দোকানে আসলে বাহির থেকে কে বা কারা দোকানের শাটার বন্ধ করে দেয় এবং পরে থানা পুলিশ আমাদের আটক করে। শালিশগন আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক নিয়ে আমাদের বিবাহ পড়িয়ে দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা বলেন, আইযুব আগেও এই ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল। সে ৩/৪ টি বিবাহ করেছে,সে হাফেজ নামের কলংক।



সদরপুর যুবদলের আহবায়ক কমিটি গঠন


বিপ্লব কুমার দাস(শাওনঃ ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা যুবদলের ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহবায়ক হলেন তরিকুল ইসলাম কবির। যুগ্ম আহবায়ক হলেন কে, এম আবু সাইদ, বিল্লাল হোসেন, মোশাররফ খালাসী, মুন্সী ইমরাত ,মোঃ আবুল বাশার। আহবায়ক কমিটির সদস্যরা হলেন কামরুল ইসলাম,মাসুদ আহম্মেদ, আতিকুর রহমান লাভলু, মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ লুৎফর রহমান খান,মোঃ মোতালেব পেয়াদা,কে এম শাহ আলম মনি, জুলফিকার মোল্যা, রাজিব হোসাইন, ইমান হোসেন সাবু, হেদায়েত হোসেন, এ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান লিটন, চুন্নু খান, সেলিম হাসান এরশাদ, মোঃ আক্কাচ খান,মোঃ প্রিন্স বেপারী, বাচ্চু বরকন্তাজ, শাহজাহান মৃধা, রফিকুল ইসলাম, আবুল বাশার শিকদার, হাসান মোল্যা, এখলাস মৃধা, আব্দুল আল-মামুন মৃধা, জাহিদ বেপারী,কিশোর মোল্যা, খন্দকার মনিরুজ্জামান, আশিকুর রহমান লিটন, জাকির হোসেন পল্টন, মনির হোসেন, মশিউর রহমান খান, মোঃ রফিক ফকির,আজাহার খালাসী, হাসিবুল হাসান লাভলু,আবু সাইদ খান,মিঠু জমাদ্দার।

গত ২৯ শে সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ফরিদপুর জেলা যুব দলের সভায় সিদ্বান্ত মোতাবেক এ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানান জেলা কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশ ও সম্পাদক একেএম কিবরিয়া স্বপন।
অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার দুপুরে সদরপুর কলেজ মোড় এলাকায় উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা নতুন কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের বরণ করে নেয়। এসময় সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।